শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শাহজাহান হেলাল, মধুখালী(ফরিদপুর)প্রতিনিধি:: ফরিদপুরের মধুখালীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মোল্যার ওপর টোপ শাহিনের হমলায় গুরুতর আহত হয়ে মধুখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মধুখালী থানায় লিখিত এজাহার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মোল্যার শারিরীক প্রতিবন্ধি ছেলে মোঃ খোকন মোল্যা(৪০) ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। খোকনের দোকান থেকে টোপ শাহিন নিয়মিত বাকী ও নগদে পন্য ক্রয় করতেন। গত ২৬ এপ্রিল (সোমবার) বিকেলে শাহিনের কাছে বাকীর টাকা চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে দোকানের মালামাল ভাংচুর করে। খোকন শারিরীক প্রতিবন্ধি হওয়ায় কোন প্রতিবাদ করতে পারে নাই। দোকান ভাংচুরের সংবাদ জানতে পেরে বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মোল্যা শাহিনের বাড়ীতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তেজিত হয়ে অমানুষিক ভাবে তাকেও মারধর করে। এসময় তার আত্মচিৎকারে বীরমুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে গেলে তাদেরও জোট বদ্ধ হয়ে মারধর করে। বীরমুক্তিযোদ্ধার ছেলের বৌ রহিমা এগিয়ে গেলে তাকে শ্লীলতাহানী করে এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং শারিরীক জখম করে। বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মোল্যা গুরুতর আহত হলে রাতেই তাকে চিকিৎসার জন্য মধুখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমান তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মোল্যা বাদী হয়ে রাতে মধুখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মধুখালী থানা পুলিশ রাতেই ঘটানার প্রধান অভিযুক্ত আসামী টোপ শাহিনকে মধুখালী সদর হাসপাতাল থেকে আটক করে। শাহিনের সহযোগিরা হলো- মুন্সী শেখ, রিবা বেগমা, মোঃ হৃদয় শেখ, অন্তর শেখ, নবেলা বেগমসহ প্রমুখ।
মধুখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মোল্যাকে হাসপাতালে দেখতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা মনোয়ার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মুরাদুজ্জামান মুরাদ, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ খুরশিদ আলমসহ বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ। মধুখালী থানার পরিদর্শক মোঃ শহিদুল ইসলামের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত প্রধান আসামী টোপ শাহিনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। আড়পাড়া ইউনিয়ন পনিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান শূন্য থেকে টোপের মাধ্যমে প্রতারনা করে আজ সে আলীসান বাড়ী থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক। যে কারনে টাকার গরমে কোন কিছুই পরোয়া করেন না। প্রশাসনের কাছে আমি টোপ শাহিনের সম্পদের হিসাব ও একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার ওপর নরকিয় হামলার সর্বচ্চ শাস্তি দাবি করছি।